Translate

Showing posts with label Ahamkar. Show all posts
Showing posts with label Ahamkar. Show all posts

Monday, June 8, 2026

ভগবান শিব কেন শ্মশানে বাস করেন? এর আধ্যাত্মিক অর্থ কী?



'ভগবান শিব-কে হিন্দু ধর্মে সংহার ও পুনর্সৃষ্টির দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর রূপ অন্য দেবতাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। যেখানে অধিকাংশ দেবতাকে রাজকীয় অলংকার, প্রাসাদ বা স্বর্গীয় পরিবেশে কল্পনা করা হয়, সেখানে শিবকে দেখা যায় ভস্মমাখা দেহে, গলায় সাপ জড়িয়ে এবং শ্মশানে অবস্থান করতে। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—ভগবান শিব কেন শ্মশানকে নিজের বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন?

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্মশান এমন একটি স্থান যেখানে মানুষের সমস্ত অহংকার, ক্ষমতা, সম্পদ ও পরিচয়ের শেষ পরিণতি ঘটে। একজন রাজা হোক বা সাধারণ মানুষ, মৃত্যুর পর সকলের গন্তব্য একই। শিব শ্মশানে অবস্থান করে এই চিরন্তন সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেন—জীবনের সব পার্থিব গৌরব একদিন শেষ হয়ে যাবে।

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্মশান শুধু মৃতদেহ দাহ করার স্থান নয়; এটি বৈরাগ্য ও মুক্তির প্রতীক। মানুষ যখন শ্মশানে যায়, তখন সে উপলব্ধি করতে পারে যে জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং জাগতিক মোহ-মায়া স্থায়ী নয়। শিব সেই উপলব্ধির দেবতা। তিনি মানুষকে শেখান, সত্যিকারের শান্তি বাইরের সম্পদে নয়, আত্মজ্ঞান ও আত্মোপলব্ধিতে নিহিত।

আরও একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, শিব সমাজের সেই সব কিছুকেই আপন করে নেন যেগুলোকে সাধারণ মানুষ ভয় পায় বা এড়িয়ে চলে। মৃত্যু, ভয়, অন্ধকার ও শূন্যতা—এসবের মধ্যেও তিনি উপস্থিত। এর মাধ্যমে তিনি বোঝান যে ঈশ্বরের কাছে কোনো স্থান অপবিত্র নয় এবং জীবনের কোনো সত্যকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
শিবের শরীরে মাখা চিতাভস্মেরও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। এই ভস্ম স্মরণ করিয়ে দেয় যে একদিন মানবদেহও মাটিতে মিশে যাবে। তাই অহংকার, লোভ ও আসক্তির পরিবর্তে মানুষকে সৎকর্ম, জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

এই কারণেই শিবের শ্মশানবাসকে শুধু একটি পৌরাণিক ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবনের অন্যতম গভীর শিক্ষা—মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু আত্মা চিরন্তন। শিব শ্মশানে অবস্থান করে মানুষকে সেই চিরন্তন সত্যের মুখোমুখি হতে শেখান এবং মনে করিয়ে দেন যে জন্ম ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বে যে জ্ঞান, সেটিই প্রকৃত মুক্তির পথ।

Friday, January 16, 2026

দেবমূর্তির চোখ শেষ মুহূর্তে আঁকার প্রচলন কেন? এর পিছনে কি কারণ?






ভারতীয় সভ্যতার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে বহু প্রাচীন নিয়ম কেবল ইতিহাস হয়ে যায়নি, বরং আজও জীবন্ত ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হচ্ছে। দেবমূর্তির চোখ শেষ মুহূর্তে আঁকার রীতি তার অন্যতম উদাহরণ। এটি কোনো লুপ্ত প্রথা নয়; এটি প্রাচীন ভারতের শাস্ত্রনির্দেশিত একটি নিয়ম, যা আজও একই অর্থ ও শ্রদ্ধা নিয়ে অনুসৃত হয়।

1. প্রাচীন ভারতের নিয়ম—মূর্তি মানেই জীবন্ত সত্তা

প্রাচীন ভারতীয় শিল্পশাস্ত্রে মূর্তিকে কখনোই নিছক পাথর বা মাটি হিসেবে দেখা হয়নি। মূর্তিকে কল্পনা করা হয়েছে দেবতার দেহ হিসেবে, যেখানে চোখ হলো চেতনার প্রকাশ। তাই চোখ আঁকা মানে ছিল দেবতার জাগরণের মুহূর্ত—এই ধারণা তখন যেমন ছিল, আজও তেমনই রয়ে গেছে।

2. ‘নেত্রোন্মীলন’—শাস্ত্রে নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তিত বিধান

শিল্পশাস্ত্র ও আগমগ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা আছে—মূর্তি সম্পূর্ণ হওয়ার আগে চোখ দেওয়া যাবে না। এই নিয়ম আজও মন্দির নির্মাণ ও প্রতিমাশিল্পে অপরিবর্তিতভাবে মানা হয়। নাম বদলায়নি, অর্থ বদলায়নি—শুধু সময় বদলেছে।

3. দর্শনের ধারণা: তখন যেমন, এখনো তেমন

ভারতীয় দর্শনে ‘দর্শন’ শব্দটির অর্থ শুধু দেখা নয়। এখানে ভক্ত দেবতাকে দেখেন এবং দেবতাও ভক্তকে দেখেন—এই দ্বিমুখী সম্পর্কের সূচনা চোখ থেকেই। তাই চোখ আঁকার আগে দেবমূর্তিকে আজও ‘অজাগ্রত’ বলে ধরা হয়।

4. শিল্পীর ভূমিকা—প্রাচীন নিয়ম আজও বহাল

প্রাচীন ভারতে যেমন চোখ আঁকার দায়িত্ব থাকত প্রধান শিল্পীর ওপর, আজও তাই। বহু প্রতিমাশিল্পী এখনো উপবাস, শুদ্ধব্রত ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এই কাজ করেন। এটি তাঁদের কাছে নিছক পেশা নয়, বরং একধরনের সাধনা।

5. চোখ আঁকার সময় নির্দিষ্ট তিথি—আজও মানা হয়

শুভ তিথি ও নক্ষত্র দেখে চোখ আঁকার প্রথা প্রাচীন ভারতের নিয়ম। আজও দুর্গাপূজা, মন্দির প্রতিস্থাপন বা নতুন বিগ্রহ স্থাপনের সময় এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। আধুনিক যুগেও এই সিদ্ধান্ত জ্যোতিষশাস্ত্র মেনেই নেওয়া হয়।

6. উগ্র দেবতার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

কালী, ভৈরব বা নৃসিংহের মতো উগ্র দেবতার মূর্তিতে চোখ আঁকার সময় প্রাচীন নিয়ম আজও কঠোরভাবে মানা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দেবতাদের দৃষ্টি অত্যন্ত শক্তিশালী—তাই কোনো নিয়ম ভঙ্গ করা অনুচিত।

7. আয়নায় চোখ আঁকার প্রথা—আজও জীবিত

কিছু অঞ্চলে আজও শিল্পীরা সরাসরি চোখ না এঁকে আয়নায় প্রতিফলন দেখে চোখ আঁকেন। এই রীতির উল্লেখ প্রাচীন গ্রন্থেও পাওয়া যায় এবং তা আজও পালিত হচ্ছে।

8. কেন এই রীতি বদলায়নি?

কারণ এটি কেবল একটি আচার নয়। এটি দর্শন, বিশ্বাস ও শিল্পচেতনার সমন্বয়। তাই আধুনিকতার চাপেও এই প্রাচীন নিয়ম আজও একই গভীরতা ও মর্যাদায় টিকে আছে।


দেবমূর্তির চোখ শেষ মুহূর্তে আঁকার রীতি প্রাচীন ভারতের একটি অবিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারা। এটি অতীতের স্মৃতি নয়, বর্তমানের বাস্তবতা। ভারতীয় সভ্যতার শক্তি এখানেই—যেখানে হাজার বছরের নিয়ম আজও জীবন্ত ও অর্থবহ।

Saturday, January 22, 2022

Ego or Ahamkar and Swami BireswaraNandaJi's very useful Advice.

 প্রশ্ন : মহারাজ, আমাদের জীবনে আমরা নানারকম কাজ করি ৷ তাহলে আমাদের অহংকার হ্রাস বা বৃদ্ধির পরীক্ষাটা কি ? কিভাবে জানব ?


বীরেশ্বরানন্দ মহারাজ : আত্মসমীক্ষা দ্বারা ৷ কেউ যদি তোমার সমালোচনা করে তুমি সঙ্গে সঙ্গে রেগে যাও, কেউ প্রশংসা করলে উল্লসিত হও ৷ এগুলো দেখাচ্ছে যে, তোমার অহংকার আছে ৷ তুমি মনের সাম্যভাব বজায় রেখে কিছু করতে সক্ষম নও ৷ কেউ এসে যদি তোমার কাজের অনধিকার চর্চা করে, তোমার মেজাজ বিগড়ে যায় ৷ 


দেখ, বিজ্ঞান মহারাজ একবার বলেছিলেন : "কেউ যদি তোমার পা মাড়িয়ে দেয়, তাহলে সরে দাঁড়াও এবং তাঁর জন্য জায়গা করে দাও ৷" তাকে ঠেলে দিয়ে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই, "কেন তুমি আমার পা মাড়ালে ? বরং নিজেকে সরিয়ে নাও ; সরে যাও এবং তাঁর জন্য জায়গা করে দাও ।"


অনুরূপভাবে, কাজের ক্ষেত্রেও একইরকম ৷ কেউ তোমার কাজে নাক গলালো এবং ওই কাজের জন্য বাহাদুরি নিতে চাইল, তুমি সেই কাজ এবং তার কৃতিত্ব তার জন্য ছেড়ে দাও ৷ তাকে এটা করতে দাও, কারণ, যেভাবেই হোক ঠাকুরের কাজ নিষ্পন্ন হতে হবে ৷ সেটা তুমি করলে, কি সে করল এবং সে বাহাদুরি নিল — ওটা কোন ব্যাপার নয় ৷ এইভাবে, আত্মসমীক্ষার দ্বারা তুমি তোমার দোষ-ত্রুটি খুঁজে পাবে ৷


রাজা মহারাজ আমাদের উপদেশ দিয়েছিলেন — প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমাদের সারাদিনের কাজগুলোকে পুনর্বিচার করতে ৷ আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে কতটা সময় নিজের আরামের জন্য এবং কতটা সময় সেবাকাজে ব্যয়িত হলো ৷ যদি সেখানে কোন ভুল-ভ্রান্তি থাকে, আমরা অবশ্যই সেগুলো সংশোধন করব এবং পরের দিনের জন্য নতুন প্রতিজ্ঞা করব ৷ (সংগৃহীত).




Featured Posts

ভগবান শিব কেন শ্মশানে বাস করেন? এর আধ্যাত্মিক অর্থ কী?

'ভগবান শিব-কে হিন্দু ধর্মে সংহার ও পুনর্সৃষ্টির দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর রূপ অন্য দেবতাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। যেখানে অধিকাংশ...

Popular Posts